সেতু


বইঘর তার স্বপ্নযাত্রার এক দশক পার করছে। সময়ের আবর্তনে কাগজে ছাপা হরফ পড়ার অভ্যাস প্রায় হারাতে বসেছে জাতি। কঠিন এই দুঃসময়েও আশায় বুক বেঁধে মলাটবদ্ধ কাগজে দানা দানা ছোট হরফ তুলে দেয়ার ব্রত পালন করছে বইঘর। যদি কেউ আগ্রহে তুলে নেয় তা। কালো অক্ষর থেকে কারও হৃদয়ে যদি ঠিকরে পড়ে জ্ঞানের আলো। কারও যদি চিন্তার মুক্তি মিলে...

আজ চাঁদটা অনেক বড়। আকাশের কোন একদিকে যেনো অনেকটা হেলে পড়েছে। আলোটাও বোধ হয় একটু বেশিই ছড়াচ্ছে। মনে হয় আজ পূর্ণিমা। কিন্তু এখন এতকিছু ভাবার সময় নেই ইফতির। সে যাচ্ছে বিশেষ একটা কাজে। কাজটা শুধু বিশেষ না অতি বিশেষ....

: নাম? : দুলাহ মিয়া। : হোয়াট? : আমার নাম দুলাহ মিয়া। : দুলা মিয়া মানে? : মানেটা বোঝানো কঠিন স্যার। আব্বা আম্মা নাম রাখলেন সুজাউদৌলাহ। কিন্তু তা হলে কি হয়? পড়শীরা পাঁচজন কি আস্ত থাকতে দিলে ওটা? তারা ওটাকে ঠেলতে ঠেলতে প্রথমে দৌলাহ আর সব শেষে দুলাহ মিয়াতে এনে তবে ছাড়লে। এখন আমার আব্বা আম্মাও আমাকে দুলাহ বলে ডাকেন। আত্মীয় পরিজন সবাই বলেন দুলাহ মিয়া। : তা বলুক। ঐসব দুলাহ মিয়া ফুলাহ মিয়া এখানে চলবে না। চাকরি পেতে হলে সেরেফ মিয়া মানে মিয়া সাহেব হতে হবে তোমাকে।

ইস্! কী সুন্দর রঙিন ডানা! নাম কি তোমার ভাই? ফুলকুমারী। নামটাও ভারী মিষ্টি। আচ্ছা ফুলকুমারী, তুমি আমার বন্ধু হবে? ফিক করে হেসে ফেলে ফুলকুমারী। তার হাসিটাও অনেক সুন্দর। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে বড়ায়। রঙিন ডানায় রঙের বাহার। সকালের রোদ লেগে চিকচিক করছে। আমার দিকে তাকিয়ে বললো, কেন বন্ধু হবো না তোমার? তুমিও তো খুব সুন্দর! আচ্ছা, আমি কি সত্যিই সুন্দর! অনেকেই তো মাঝে মধ্যে পচা বলে আমাকে। সুন্দরও বলে। তবে ফুলকুমারী মিথ্যা বলতে পারে না। এত সুন্দর যাকে দেখতে, সে কি কখনও মিথ্যা বলতে পারে! ফুলকুমারীকে বললাম, আহা! আমার যদি তোমার মতো ডানা থাকতো? তাহলে কি মজাই না হতো!